গাজীপুর আন্তঃজেলায় মাদক চক্রের ব্যবসায়ী আটক-২

প্রকাশিত: ৯:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৯
জাগ্রত বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: র‍্যাব-১ এর বিশেষ অভিযানে গাজীপুর মহানগরীর জয়দেবপুর হতে অভিনব কায়দায় মাদক পরিবহনকালে আন্তঃ জেলা মাদক ব্যবসায়ী চক্রের ০২ সদস্য গ্রেফতার  ৪০ কেজি গাজাসহ মাদক পরিবহণে ব্যবহৃত ০১ টি পিকআপ জব্দ।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মাদকাসক্তি একটি বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যাক্রমশঃ বিস্তৃত হচ্ছে ব্যক্তি হতে পরিবার, পরিবার হতে সমাজ, সমাজ হতে রাষ্ট্রে। মাদকাসক্তিরপ্রধান শিকার তর“ন এবং যুব সমাজ। যে যুব সমাজ দেশ ও জাতির আগামী দিনের চালিকা শক্তি, তাদের একটি অংশ মাদকাসক্তির কবলে পড়ে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড যেমন- ছিনতাই-রাহাজানি, দস্যুতা, চাদাবাজি, ইত্যাদি অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র‍্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময়ই মাদক উদ্ধারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করেআসছে। এই পর্যন্ত র‍্যাব বিপুল পরিমান দেশী-বিদেশী অবৈধ মাদক উদ্ধার করে জনমনে আস্থাঅর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
মাদকমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-১, উত্তরা, ঢাকা এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারে যে, বেশ কিছুদিন ধরে একটিমাদক ব্যবসায়ী চক্র দেশের বিভিন্ন স্থান হতে মাদক দ্রব্য কৌশলে রাজধানীসহ আশপাশের জেলায়নিয়ে আসছে। র‍্যাব-১ ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি মাদকের বড় চালান আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
চক্রটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাকি দেওয়ার জন্য নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বনকরছে। কখনো যাত্রীবাহী বাসে করে, আবার কখনো কখনো ট্রাকে করে মাদকদ্রব্য নিয়ে আসছেবলে জানা যায়। গোপন সুত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ হতে একটি ট্রাকে করে মাদকদ্রব্য গাজারএকটি বড় চালান রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে আসছে। এরই প্রেক্ষিতে মাদক ব্যবসায়ী চক্রটিকে
গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‍্যাব-১ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে এবং মাদক দ্রব্যের চালানটির গতিবিধিঅনুসরণ করার লক্ষ্যে অবস্থান নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৩ নভেম্বর ২০১৯ ইং তারিখ আনুমানিক ১৮৩০ ঘটিকায় র‍্যাব-১, উত্তরা, ঢাকা এর একটি আভিযানিক দল গাজীপুর মহানগরীর জয়দেবপুর থানাধীন দক্ষিণ সালনাস্থ ঢাকা ময়মনসিংহ রোডের পূর্ব পাশের্ব অবস্থিত শ্যামলী গার্মেন্টস সংলগ্ন হৃদয়।
এন্টারপ্রাইজ এর সামনে পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে আন্তঃ জেলা মাদক ব্যবসায়ীচক্রের সদস্য ১) মোঃ নবির হোসেন (৩৯), পিতা- মৃত সাফি মিয়া, মাতা- মোছাঃ ফরিদাবেগম, সাং- ভৈরবপুর উত্তরপাড়া, পোঃ ও থানা- ভৈরব, জেলা- কিশোরগঞ্জ ও ২) মোঃ সুমন মিয়া(৩০), পিতা- মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মাতা- মৃত খোদেজা বেগম, সাং- ঘুষামারা, পোঃ ও থানা- ভৈরব, জেলা- কিশোরগঞ্জ’দ্বয়কে গ্রেফতার করে। এসময় ধৃত আসামীদের চালিত পিকআপহতে ৪০ কেজি গাঁজা ও ০২ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় এবং মাদক পরিবহনের কাজেব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়।
 গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা একটি সংঘবদ্ধমাদক চোরাচালানকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা হবিগঞ্জ জেলার সীমান্তবতর্ী এলাকা দিয়েঅবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে গাজা নিয়ে আসে। পরবতর্ীতে গঁাজার চালানগুলোবিভিন্ন পণ্যবাহী পরিবহনে করে ঢাকাসহ সারাদেশে মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট সরবরাহ করা হয়।এই চক্রের অন্যতম সদস্য হবিগঞ্জ জেলার জনৈক মাদক ব্যবসায়ী। সে অবৈধভাবে গাজার চালানদেশে নিয়ে এসে তার সহযোগী ধৃত আসামী নবির ও সুমনের মাধ্যমে মাদকের চালান ঢাকা ওআশেপাশের এলাকায় নিয়ে এই সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের নিকট খুচরা ও পাইকারী মূল্যে বিক্রয় করে বলে জানায়।
 ধৃত আসামী নবির’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে জব্দকৃত পিকআপটির মালিক। সে হবিগঞ্জ জেলার জনৈক মাদক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। সে দীর্ঘদিন যাবত মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। সে বর্ণিত গাজার চালানটি হবিগঞ্জ জেলার সীমান্তবরতী এলাকা হতে গাজীপুর নিয়ে আসছিল বলে জানায়। বর্ণিত চালানটি গাজীপুর মহানগরীর জনৈক মাদক ব্যবসায়ীর নিকট সরবরাহ করার কথা ছিল। সে ইতিপূর্বে ১০/১৫ টি মাদকের চালান ঢাকায় নিয়ে এসেছে বলে স্বীকার করে। চালান প্রতি মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে ৪৫,০০০ টাকা করে দিত বলে জানায়।
ধৃত আসামী সুমন’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে পেশায় একজন পিকআপ চালক। সে প্রায় ১০-১৫ বছর যাবত পিকআপ চালিয়ে আসছে। সে ধৃত আসামী নবিরের পিকআপ চালায় এবং তার মাধ্যমে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। সে দীর্ঘদিন যাবত মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। সে ইতিপূর্বে ০৮/১০ টি মাদকের চালান গাজীপুরে নিয়ে এসেছে বলে স্বীকার করে। চালান প্রতি ধৃত আসামী নবির তাকে ২০,০০০ টাকা করে দিত বলে জানায়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য এবং গ্রেফতারকৃত আসামীদের বির“দ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।