কক্সবাজারে ৫৫৩ এইডস রোগী শনাক্ত, রোহিঙ্গাদের কারণে বেড়েছে এইডস রোগীর সংখ্যা!

প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০১৯

জাগ্রত বাংলাদেশ

কক্সবাজার জেলায় ৫৫৩ জন এইডস রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্য। এই কারণে এইডসের ঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয়রাও। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের এইচআইভি ট্রিটমেন্ট সেন্টার ও প্রিভেনশন অব মাদার টু চাইল্ড ট্রান্সমিশন অব এইচআইভি (পিএমটিসিটি) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫৫৩ জনে আক্রান্তের মধ্যে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ৩২৫ জন, উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে ১২২ জন ও ইউনিসেফ পরিচালিত পিএমটিসিটি-তে ১০৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। ২০১৮ সালে এইডস রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৫৫ জন। গত ১ বছরে আরও ৯৮ জন মরণঘাতি এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মহি উদ্দিন বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসার পর থেকে এইডস রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। বিশেষভাবে স্ক্যান করার মাধ্যমে এইচআইভি পরীক্ষা করা হলে এই রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীতে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

হাসপাতালের এইচআইভি ট্রিটমেন্ট সেন্টারের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘চলতি বছর শুধুমাত্র নভেম্বর মাসে ১৯ জন এইডস রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ জন বাংলাদেশ এবং ১৮ জন রোহিঙ্গা।’

পিএমটিসিটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের এখানে চিকিৎসাধীন ১০৬ জন এইডস আক্রান্ত রোগীর সবাই রোহিঙ্গা গর্ভবতী নারী। গত এক মাসে ২৯ জন গর্ভবতী নারীর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ জন রোহিঙ্গা নারী এবং ৩ জন বাংলাদেশি নারী।’

সিভিল সার্জন ডা. আবদুল মতিন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কারণে এইডস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে কক্সবাজারে। চিকিৎসা নিতে আসা বেশির ভাগ রোগী রোহিঙ্গা। এইডস থেকে উত্তরণে স্থানীয়ভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তা না হলে শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো দেশে ছড়িয়ে যেতে পারে এই মরণব্যাধি।’

কক্সবাজার পিপলস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল জানিয়েছেন, ‘এমনিতেই পর্যটন শহর কক্সবাজার। দেশি-বিদেশি পর্যটিকরা এখানে আসেন। এর মধ্যে আবার এসে ঢুকেছে রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষরা শহরের বিভিন্ন হোটেল ও মোটেলগুলোতে অবাধে যৌনমিলনসহ নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে বাড়ছে এইডস-এর ঝুঁকি। এই ঝুঁকি এড়াতে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের চলাফেরার উপর কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে।”