নতুন বছরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আতঙ্কে ঢাকাসহ দেশবাসী

প্রকাশিত: 10:46 AM, January 4, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আতঙ্ক ফের জেকে বসতে শুরু করছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশবাসীর মনে। বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। গত বছরের আলোচিত চরিত্র ছিল পেঁয়াজ। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানির পর ও কৃষকের ক্ষেত থেকে তোলা পেঁয়াজ বাজারজাত করার পরও স্থিতিশীল হয়নি এর বাজার। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে চড়া দামে। ভোজ্যতেল, আদা, রসুন, চিনিসহ শাকসবজির দামও ছিল চড়া।

গত বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আসছে রোজায় যেন দ্রব্যমূল্য না বাড়ে এজন্য ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চান তিনি। কিন্তু বৈঠকের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই আজ থেকে নিত্যপণ্যের বাজার চড়া হতে শুরু করেছে। গত বছরের শেষার্ধে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বেকায়দায় পড়েছিল সরকার। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, মন্ত্রী বলেছেন, তিনি এখন বসবাস করছেন আগুনের মধ্যে।

গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে সরেজমিন দেখা গেছে বর্ধিত দ্রব্যমূল্যের চিত্র। ১০০ টাকায় নেমে আসা দেশি পেঁয়াজ গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কৃষকরা বেশি দামে বিক্রির আশায় মাঠ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পেঁয়াজ তোলায় দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে, আর সেজন্য দাম বেড়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দেশের আমদানিকারক, উৎপাদক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে।

এ সময় ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক মুনাফার পরামর্শ দিয়ে আসন্ন রমজান মাসের চাহিদা মেটাতে ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, আদা, রসুন, খেজুর ও পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা, উৎপাদন, আমদানি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় মজুদের পরামর্শ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের ন্যায়সঙ্গত মুনাফা করে ব্যবসা করার কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ আহ্বানের পরের দিন পেঁয়াজসহ দাম বেড়ে যায় আদা, রসুন ভোজ্যতেল ও চিনির। পাশাপাশি সব ধরনের শাকসবজির দামও বেড়েছে। এদিকে আসন্ন রোজা উপলক্ষে দুই লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত হয় গত বৃহস্পতিবারে।

আজ কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক মৌসুমের সময় পেঁয়াজ আমদানি না করার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন বলে জানান। কৃষিমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ আমদানির জন্য শুধু ভারতের ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না। যখন মৌসুম আসে তখন পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। সে কারণে পেঁয়াজ চাষে উৎসাহ দেখা যায় না। আমরা বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেছি, মৌসুমের সময় যেন পেঁয়াজ আমদানি করা না হয়। এতে চাষিরা ভালো দাম পাবেন।

বর্তমানে নতুন আলুর কেজি ৪০, শিমের কেজি ৬০, গাজর ও মুলার কেজি ৬০, টমেটোর কেজি ৮০ টাকা বিক্রি করতে দেখা যায় খুচরা বাজারে। প্রতি কেজি আদার দাম ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। ঢেরস ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে । রসুনের দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ টাকা। ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা। চিনির দাম ৫ টাকা বেড়ে গতকাল থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সিটি গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার বিশ্বজিৎ সাহা জানান, শীতের সময় ভোজ্যতেল জমে যায় বলে পামতেলের ব্যবহার ও বিক্রি কমে যায়। চাপ পড়ে সয়াবিনের ওপর। আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম বেড়েছে। এর প্রভাবই পড়ছে তেলের বাজারে।

বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জানান, রমজানকে সামনে রেখে এ মুহূর্তে পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি আমদানির এলসি খুলতে হবে। যাতে রোজার আগেই প্রয়োজনীয় পণ্যের ভালো মজুদ গড়ে তোলা হয়।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে প্রভাব পড়বে অন্য খাতে। এ কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে। গত কয়েক মাস ধরে চলে আসা ডলারের মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন জানান, দেশে উৎপাদিত পণ্যের সরবরাহ ও মজুত ভালো। এগুলোর দাম বাড়বে না। আমদানিনির্ভর পণ্যগুলোর দাম স্থিতিশীল থাকলে নতুন বছর নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হবে না, তবে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি অশনিসংকেত।বর্তমানে ডলারের দাম ৮৪ থেকে ৮৬ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। স্থিতিশীলতা না থাকলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বাজার পরিস্থিতিতে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, দ্রব্যমূল্য বাড়ায় তারা শুধু কষ্টেই আছেন তা নয় বিরক্তও। একাধিক ক্রেতা বলেছেন, সরকারের কোনো সিদ্ধান্তই কার্যকর হচ্ছে না, বাজার চলছে ব্যবসায়ী আর সিন্ডিকেটের ইশারা ও ইন্ধনে। এর হাত থেকে রেহাই পেতে সিন্ডিকেটে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিয়ে উদাহরণ তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।