জুয়া খেলায় স্বামীকে তালাক দিলেন স্ত্রী

প্রকাশিত: 4:46 PM, January 7, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আড়াই মাস পর মায়ের কোলে ফিরল এক বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া। মঙ্গলবার (০৭ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিশোরগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে তার মায়ের কোলে তুলে দেয় পুলিশ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আড়াই মাস আগে স্বামী পাভেল মিয়াকে (৩২) তালাক দেন স্ত্রী স্বর্ণা বেগম (২৫)। তালাকের পর ১০ মাস বয়সী শিশু সন্তান জান্নাতুল মাওয়াকে জোর করে নিয়ে যান বাবা। এ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে মামলা করেন শিশুটির মা। পরে শিশুটিকে বাবার কাছ থেকে উদ্ধার করে আদালতে হাজিরের জন্য ভৈরব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন বিচারক।

সোমবার (০৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভৈরব শহরের চন্ডিবের এলাকার পাভেলের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় বাবা পাভেলকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার শিশু ও তার মা-বাবাকে কিশোরগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারকের নির্দেশে শিশুটিকে তার মায়ের কোলে তুলে দেয় পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চার বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের ভাদুঘর এলাকার হাবিব মিয়ার মেয়ে স্বর্ণা বেগমের সঙ্গে ভৈরব পৌর শহরের চন্ডিবের এলাকার কায়কোবাদ মিয়ার ছেলে পাভেলের বিয়ে হয়। বিয়ের তিন বছর পর তাদের একটি মেয়ে সন্তান হয়।

ও মাদকে আসক্ত হওয়ায় তিন মাস আগে পাভেলকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেন স্বর্ণা। দ্বিতীয় বিয়ের খবর পেয়ে আড়াই মাস আগে স্ত্রীর কোল থেকে জোর করে শিশু সন্তানকে নিয়ে যান পাভেল। এ ঘটনায় মামলা করেন স্ত্রী। পরে বাবার কাছ থেকে শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন আদালত।

স্বর্ণা বেগম বলেন, জুয়া ও মাদকাসক্ত হওয়ায় পাভেলকে তালাক দিলাম। মাদক সেবন করে প্রতিদিন আমাকে নির্যাতন করত পাভেল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তাকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেছি। এ খবর পেয়ে দুধের সন্তানকে জোর করে নিয়ে পাভেল। তাই সন্তানকে ফিরে পেতে মামলা করেছি।

ভৈরব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন বলেন, আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে বাবার কাছ থেকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার শিশুটিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন আদালত।

তিনি বলেন, আদালতের আদেশে বলা হয়েছে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে মা তার শিশুকে নিয়ে হাজির হবেন। তখন মামলাটি নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করবেন আদালত।