আজ জন্মশতবর্ষ মুজিববর্ষের কাউন্টডাউন: জাতির জন্য মাহেন্দ্রক্ষণ

প্রকাশিত: 12:36 PM, January 10, 2020

::আব্দুর রহমান::

১৭ মার্চ পূর্ণ হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের শতবর্ষ। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের আপামর জনতা। শুধু তাই নয়, বিশ্বও অপেক্ষায় আছে এই দিনটির জন্য। বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই মহান নেতার সম্মানে দিনটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে উদযাপন করার ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক সংস্থা-ইউনেস্কোও। জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি ব্যস্ত সময় পার করছে। সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তৈরি হয়েছে এবং হচ্ছে ডকুমেন্টেশনম শর্ট ফিল্ম। প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে জন্মশতবার্ষিকীর বিভিন্ন স্যুভেনির, তথ্যপরিক্রমা, সাহিত্য ম্যাগাজিন। এমনকি যে দেশের তদানিন্তন হানাদার শোষকরা আমাদের ৩০ লক্ষ বীরের প্রাণ নিয়েছিল, আড়াই লক্ষাধিক মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করেছিল, সেই পাকিস্তানও অনুসরণী আদর্শের মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর সম্মানে তাঁর ম্যুরাল স্থাপন করছে। আর জন্মশত বার্ষিকীর মাহেন্দ্রক্ষণের কাউন্টডাউন শুরু হচ্ছে আজ। বিকেলে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে মুজিব বর্ষের কাউন্টডাউন কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্বোধন করবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন ও নয়াদিল্লি হয়ে ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন স্বদেশের বুকে ফিরে আসেন। ১০ জানুয়ারি বাঙালি জাতির ভাগ্যাকাশে এক ঐতিহাসিক দিন। এইদিনে কাউন্টডাউন শুরু হয়ে আরেকটি ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুকন্যার হাত দিয়ে।

বাংলাদেশ ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই জন্ম শতবর্ষ উদযাপন করবে। আজ সারা দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের ২৮টি পয়েন্টে, বিভাগীয় শহরগুলো, ৫৩ জেলা ও দুই উপজেলা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীতে মোট ৮৩টি পয়েন্টে কাউন্টডাউন ঘড়ি বসানো হবে। বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় কমিটির সঙ্গে বাস্তবায়ন কমিটিও কাজ করছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, আওয়ামী লীগের গত সরকারের ১০ জন মন্ত্রী, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, ঢাকার দুই মেয়র, তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশ মহাপরিদর্শক, কয়েকটি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য, দুজন সাবেক গভর্নর, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রতিনিধি এবং বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীকে রাখা হয়েছে কমিটিতে। জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ডা. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। বাস্তবায়ন কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

কাউন্টডাউনের জন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে বিভিন্ন জনসমাগমের জায়গায়, সারা দেশে জেলা, সিটি করপোরেশন এবং উপজেলায় এই ডিভাইস বসানো হবে। জন্মবার্ষিকী উদযাপনে জনগণের সামনে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম উপস্থাপন এবং ত্বরান্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘সোনার বাংলা’ নির্মাণের জন্য পরিসেবাগুলো তুলে ধরা হবে। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র, প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন, ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড’ এবং হাতে হাত রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি গড়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণ। এছাড়া কনসার্টসহ নানা আনন্দ আয়োজন ও রক্তদানসহ সেবাধর্মী কর্মসূচি থাকবে। এ উদযাপনে সর্বস্তরের জণগণকে সম্পৃক্ত করা হবে। এসবের মধ্য থেকে আমাদের নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুকে গভীরভাবে জানতে পারবে বলে আমরা মনে করি।

দেশ-বিদেশে নানা আয়োজনে বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকবেন। ১৭ মার্চ মূল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বঙ্গবন্ধুর সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্বকে। তাদের মধ্যে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ প্রমুখ। সেই অনুযায়ীই সব পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিদেশে বাংলাদেশের ৭৭টি মিশন তাদের স্ব স্ব স্বাগতিক দেশে ২৬১টি অনুষ্ঠান করবে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জার্মানি ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে বঙ্গবন্ধু চেয়ার চালু করেছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বঙ্গবন্ধু সেন্টার স্থাপন করেছে। পাশাপাশি ভারত, তুরস্ক, ফিলিস্তিন এবং কম্বোডিয়ার বিভিন্ন নগরীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে সড়কের নামকরণ করা হয়েছে।

মুজিব বর্ষব্যাপী মুজিবাদর্শ তুলে ধরা ছাড়াও সরকার চায় এ সময়টাতে বিশ্বব্যাপী এমন এক নতুন বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং করতে, যে বাংলাদেশ হচ্ছে অপার সম্ভাবনা ও সুযোগ-সুবিধার এক গতিশীল অর্থনীতির দেশ। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে আমরা এই মহৎ উদ্দেশ্যের সাফল্যে পৌঁছে যাবো।