চট্টগ্রামে ৮ আসন উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর বিজয়

প্রকাশিত: 9:07 AM, January 14, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা তিনবারের সংসদ সদস্য প্রয়াত জাসদ নেতা মঈনউদ্দিন খান বাদলের স্থলাভিষিক্ত হলেন আওয়ামী লীগ নেতা মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। ভোটে বিএনপির প্রার্থীকে ৬৯ হাজার ৪১১ ভোটে হারিয়ে তিনি হয়েছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের নতুন সংসদ সদস্য। জীবন সায়াহ্নে এসে একবার সংসদে যাওয়ার আকুতি জানানো মোছলেমের আশা পূরণ হয়েছে। এর ফলে প্রায় চার দশক পর এই আসনে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম প্রাঙ্গণে ভোটের ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান।

কর্ণফুলী নদীর তীরের এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৮। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৫৮১ জন। ভোটের হার ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। নগরী ও উপজেলা মিলে মোট কেন্দ্র ১৭০টি। প্রাপ্ত ফলাফলে নৌকা প্রতীকে মোছলেম উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৩৪৬ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকে আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ১৭ হাজার ৯৩৫ ভোট। নির্বাচনে সম্পূর্ণ ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে আরও চার জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম আজাদ ১ হাজার ১৮৫ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ মোহাম্মদ ফরিদ আহমদ ৯৯২ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক আপেল প্রতীকে ৫৬৭ ভোট এবং ন্যাপের বাপন দাশগুপ্ত কুঁড়েঘর প্রতীকে পেয়েছেন ৬৫৬ ভোট।

নির্বাচন চলাকালে বেলা একটার দিকে উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ স্থগিতের দাবি করেন বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান। তিনি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পুনরায় ভোট গ্রহণের আবেদন করেছেন। সুফিয়ান বলেন, ‘মোট ১৭০ টি কেন্দ্রের মধ্যে অলমোস্ট সব কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না।’

সোমবার বেলা একটায় চট্টগ্রাম নগরের নাসিমন ভবনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান আবু সুফিয়ান। তিনি আবার বেলা তিনটার দিকে বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি। আর শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকতে চান।

নির্বাচন নিয়ে সুফিয়ান বা বিএনপির অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান। তিনি বলেন, স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচন হয়েছে। সবার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে।

বিএনপি প্রার্থীর ভোট গ্রহণ স্থগিতের দাবি সম্পর্কে হাসানুজ্জামান বলেন, যেহেতু কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, তাই এ দাবির প্রশ্নই আসে না।

২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বর্ষীয়ান রাজনীতিক সাংসদ মঈনউদ্দিন খান বাদল।

স্বাধীন দেশে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনটি আওয়ামী লীগ পেয়েছিল। এরপর থেকে ২০০৮ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের হাতছাড়া ছিল আসনটি। ২০০৮ সালে জাসদ নেতা মঈনউদ্দিন খান বাদল নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনটি নির্বাচনে আসনটি বাদলের দখলে ছিল।