গাজীপুর আদিবাসীর উপর হামলা ও জমি দখলের অভিযোগে মানববন্ধন

প্রকাশিত: 6:09 PM, January 15, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:গাজীপুরে আদিবাসীদের উপর হামলা জমি জবর দখলের অভিযোগে মানববন্ধন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রধান সড়কে গাজীপুর সম্মলিত আদিবাসী পরিষদ পক্ষ থেকে এ মানববন্ধন করা হয়।

পরে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে গাজীপুর সম্মিলিত আদিবাসী পরিষদের সভাপতি সুরেন্দ্র চন্দ্র বর্মন, সাধারণ সম্পাদক কোচ রম্নবেল বর্মন এর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

গাজীপুর সম্মিলিত আদিবাসী পরিষদ ও স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সোনা তলা গ্রামের ঈশ্বর চন্দ্র বর্মনের জমি দখলের অপচেষ্টা আদীবাসিদের উপর হামলা নারীদের শস্নীলতাহানীর করেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে ঈশ্বর চন্দ্র বর্মনকে জেল খাটাচ্ছেন। তারা ঈশ্বর চন্দ্র বর্মনের নিঃশর্ত মুক্তি চান। হামলাকারী জমি জবর দখলকারী ভূমিদসু্য সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

সভাপতি সুরেন্দ্র চন্দ্র বলেন, স্মরণাতীতকাল হতে গাজীপুরের বিভিন্ন গ্রামে নিজস্ব ভাষা- সংস্কৃতি জীবনাচার ধারণ করে শান্ত্মিপূর্ণ ভাবে বসবাস করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। যদিও বর্তমানে আদিবাসী বসবাসরত সব এলাকাতেই বাঙালীদের আধিপত্য বিরাজ করছে। ভুমির রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আদিবাসী বসবাসরত এলাকাতে এরাই ছিল সিংহভাগ ভূমি সম্পতির মালিক। পরবর্তীতে ভূমিদু্যদের কুটচালে আদিবাসীরা জমি হারতে থাকে। ওই সব ভূমিদসু্য ও সন্ত্রাসীরা আজও আদিবাসীদের ভয় ভীতি হয়রানি প্রতারণা করে জমি অবৈধ জবর দখলের পায়ঁতারা করে যাচ্ছে।

তিনি আরোও বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় গত (৪ জানুয়ারি’২০) শনিবার আনুমানিক বেলা ১টার দিকে মধ্যপাড়া গ্রামের কালিয়াকৈর থানার বাসিন্দা মো. আক্কেল আলী, মো. ওমর আলী, মো. আমানউলস্নাহ প্রায় ৮ থেকে ১০ জন দা, লাঠিসোঠা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই এলাকার সোনাতলা গ্রামের ঈশ্বর চন্দ্র বর্মন পিতা মৃত সুরেশ চন্দ্র বর্মন এর পৈত্তিক জমি বেআইনিভাবে জবর দখলের জন্য ইট দিয়ে বাউন্ডারি দেওয়া শুরম্ন করেন। ঈশ্বর চন্দ্র বর্মন ও গ্রামের আদিবাসীরা খবর পেয়ে বাধা দিতে আসলে আক্কেল আলী গং দা লাঠিসোঠা দিয়ে হামলা করে। বাধা দিতে আসা আদিবাসী নারীকে টেনে হিচড়ে কাপড় ছিড়ে শস্নীলতাহানী করেন। এছাড়া ওই হামলায় অনেক আদিবাসী গুরতর আহত হয়। হামলায় আহত ঈশ্বর চন্দ্র বর্মন ও অন্যান্য আদিবাসী কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমম্স্নেক্সে চিকিৎসা এবং থানায় মামলা করা জন্য যায়। কিন্তু আক্কেল আলীর ভাই মো. আব্দুল আলিম চিকিৎসা নিতে যাওয়া গুরতর জখম প্রাপ্ত বিপস্নব চন্দ্র বর্মনসহ আদিবাসীদের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমম্স্নেক্স থেকে বের করে দেয়।

কালিয়াকৈর থানায় ওই দিন রাত অনুমান ৯ টা পর্যন্ত্ম দেনদরবার করলে মো. আলীমের যোগসাজশে থানা পুলিশ আদিবাসীদের মামলা গ্রহন করেননি। হসুরেন্দ্র চন্দ্র বলেন, মামলা করতে গিয়ে ঈশ্বর চন্দ্র বর্মন, সুধাংশু চন্দ্র বর্মন উভয় পিতামৃত সুরেশ চন্দ্র বর্মন,পলাশ চন্দ্র বর্মন, কমল চন্দ্র বর্মন উভয় পিতা কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মন, কে কোন মামলা ছাড়াই আটক করে।

(৫ জানুয়ারি’২০) কালিয়াকৈর থানার সোনাতলা গ্রামের আটককৃত ঈশ্বর চন্দ্র বর্মন গংদের কে একটি মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করেন। আটককৃৃত ৩ জন জামিনে মুক্তি পেলেও ঈশ্বর চন্দ্র বর্মন এখনও কারাগারে আছেন।

তিনি জানান, দুঃখের বিষয় ঈশ্বর চন্দ্র বর্মন মামলা করলেও এখন পর্যন্ত্ম কোন আসামি গ্রেফতার হচ্ছেনা। ওই এলাকায় আক্কেল আলী গং তার ভাই আব্দুল আলীমের দাপটে আদিবাসীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।। আক্কেল আলী গংদের গ্রেফতার ও শাস্ত্মি দাবী জানান।