পদ্মা সেতুতে ২৪তম স্প্যান বসছে আজ

প্রকাশিত: 10:24 AM, February 10, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পদ্মা সেতুর ২৪তম স্প্যান (সুপার স্ট্রাকচার) বসতে যাচ্ছে আজ সোমবার। সবকিছু ঠিক থাকলে ‘৫-এফ’ নম্বর স্প্যানটি সেতুর শরিয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের ৩০ ও ৩১ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো হবে ২৪তম স্প্যানটি।নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জাজিরা প্রান্তে উঠবে ১৫০ মিটারের ২৪তম স্প্যানটি। প্রতি মাসেই তিনটি স্প্যান বসানোর কথা থাকলেও জানুয়ারিতে স্প্যান উঠেছে দুটি। চলতি মাসের ফেব্রুয়ারির ২ তারিখে ৩১ ও ৩২ নম্বর খুঁটিতে ২৩তম স্প্যানটি বসানো হয়েছে। আজকের (সোমবার) স্প্যানটি বসানো নিয়ে আটদিনের ব্যবধানে দুটি স্প্যান বসানো হবে। পদ্মা সেতুর খুঁটির ওপর যে স্প্যানগুলো বসানো হয়েছে, সে স্প্যানের ওপর (নিচের অংশে) ইতোমধ্যে ৫৭৩টি রেলওয়ে স্লাব ও স্প্যানের ওপর ২৫০টি রোডওয়ে স্লাব বসানো হয়েছে। এ পর্যন্ত মূল সেতুর কাজ হয়েছে ৮৫.০৫ শতাংশ। সেতুর সার্বিক অগ্রগতি ৭৬.০৫ শতাংশ। এভাবে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ।

জানা গেছে, চীন থেকে ৪১টি স্প্যানের মধ্যে পদ্মা সেতু এলাকায় ইতোমধ্যে ৩৭টি স্প্যান এসেছে। যার মধ্যে ২৩টি স্প্যান বসানো হয়েছে ও ২৪তম স্প্যানটি বসবে আজ সোমবার। মুন্সীগঞ্জের মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে এখন ১৫টি স্প্যান রয়েছে। দুটি স্প্যান মাওয়ায় আসার জন্য সমুদ্র পথে আছে। সেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে ৩৭টি খুঁটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি পাঁচটি খুঁটির কাজ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সবকটি স্প্যান খুঁটিরর ওপর বসানোর কর্মসূচি রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেতুতে ৫৭৩টি রেলওয়ে স্লাব ও ২৫০টি রোডওয়ে স্লাব বসানো হয়েছে।

সূত্রমতে, মূল সেতু নির্মাণ করছে চীনের চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন। নদীশাসন কাজে নিয়োগ করা হয়েছে একই দেশের সিনো হাইড্রো করপোরেশনকে। দুটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিমিটেড। এই সেতুর নির্মাণ কাজের তদারকি করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বুয়েট ও কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন অ্যাসোসিয়েটস। এই সেতু নির্মাণের ফলে দেশের বাণিজ্য, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সেতু তৈরি হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রায় ৬ কোটি মানুষের জীবন যাত্রায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। শুধু তা-ই নয়, রাজধানী ঢাকাসহ সমগ্র দেশের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে।