কলমাকান্দায় গৃহবধূকে হত্যা, স্বামী-শ্বশুর শ্বাশুরিসহ গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশিত: 4:23 PM, February 11, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোণার কলমাকান্দায় এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুরিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উপজেলার বড়খাঁপন ইউনিয়নের দত্তখিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন – স্বামী কানু চৌধুরী (৩০), শ্বশুর করুণা চৌধুরী (৬০) ও শ্বাশুরি জৈয়ন্তী চৌধুরী (৫২) এবং সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা গ্রামের সুশংকর দাসের স্ত্রী ননাস সুপ্রীতি দাস (৩৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে , উপজেলার বড়খাঁপন ইউনিয়নের দত্তখিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ খবর পেয়ে গত সেপ্টেম্বরে এক সন্তানের জননী গৃহবধূ দিতি সরকার (২২) এর  মরদেহ তার স্বামীর বাড়ি থেকে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি আত্মহত্যা করেছে এই বলে চালিয়ে দেয় শ্বশুর বাড়ির লোকজন। ওই গৃহবধূর চাচা শ্বশুর কবিরঞ্জন চৌধুরী বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন । ওই সময় খবর পেয়ে থানায় ছুটে যান গৃহবধূর মা বাবা ও স্বজনরা।

সন্দেহের সৃষ্টি হলে পরে গৃহবধূ দিতি সরকার (২২) এর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলার  নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর পূর্বে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার চামারজানি ইউনিয়নের বিশারা গ্রামের প্রাণেশ সরকারের কন্যা দিতি সরকার (২২) সামাজিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাঁপন ইউনিয়নের দত্তখিলা গ্রামের করুণা চৌধুরীর পুত্র কানু চৌধুরী (৩০)। তাদের সাংসারিক জীবনে সৌরভ চৌধুরী (১৪) মাস নামে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায়, প্রায় ৯ মাস আগে মারধরের একপর্যায়ে ওই গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা শেষে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখে। পরে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায় স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

এ বিষয়ে গত সোমবার সকালে নিহতের মা দিপালী সরকার (৪২) বাদী হয়ে ওই চার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো পাঁচজনকে আসামি করে কলমাকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল করিম জানান, শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুরি ও ননাসসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে সাতদিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে নেত্রকোণা বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।