তরুণদের জন্য দেশে ৪৯০টি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে

প্রকাশিত: 2:25 PM, February 23, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার জন্য সারা দেশে ৪৯০টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি ডটকমকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এ তথ্য জানান।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিন দিন কমছে খেলার মাঠ। এ কারণে কিশোর-তরুণরা সারাদিন ইটপাথরের মাঝে বন্দি থাকছে। খেলার জায়গা না পেয়ে মাদক-সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন। তরুণদের খেলাধুলার সাথে বেশি করে সম্পৃক্ত করতে জেলা-উপজেলা ভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় খেলার মাঠ নেই সেখানে মাঠের ব্যবস্থা করা হবে। খেলাধুলায় সম্পৃক্ত থাকলে মাদক-সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপকর্ম থেকে তরুণদের নিরাপদে রাখা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ৪৯০টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ১২৫টির কাজ শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই আরো ১৬৭টি উপজেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজ শুরু হবে ।

তিনি বলেন, তৃণমূলের ক্রীড়া উন্নয়নে সব উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। মাঠের এক পাশে থাকবে একতলা ভবন, সেখানে দুইটি ড্রেসিংরুম, অফিস রুম এবং নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ৬টি টয়লেট হবে। ভবনের সামনে থাকবে ৩৫টি আরসিসি বেঞ্চ।

প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়াম সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে স্টেডিয়ামের সংখ্যা প্রায় ৮০টি। বিভিন্ন ইভেন্ট ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্টেডিয়ামগুলো বন্ধ থাকে। বন্ধ রাখার কারণ, খেলাধুলার জন্য সব সময় উন্মুক্ত থাকলে স্টেডিয়ামের আসবাবপত্রসহ মাঠ নষ্ট হয়। বর্তমান সরকার সব সময় খেলাধুলাকে গুরুত্ব দেয়। প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়াম সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন । তাই খেলার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় স্টেডিয়ামগুলো উম্মুক্ত রাখার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আশাকরি দ্রুত এটি কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে আগামীর নাগরিকেরা যোগ্য হয়ে গড়ে উঠবে। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ আরো সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

খেলাধুলার মধ্য দিয়েই ছেলেমেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা প্রাথমিক স্কুল পর্যায় থেকেই মেয়েদের জন্য বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং ছেলেদের জন্য বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু করেছি বলে জানান তিনি।

গোপালগঞ্জ স্টেডিয়ামের বিষয়ে জানতে চাইলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেনে, আবাসন না থাকায় গোপালগঞ্জ স্টেডিয়ামের স্থাপনাগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক খেলা হলে খেলোয়াড়রা কোথায় থাকবেন? তবে আশার কথা হচ্ছে, স্টেডিয়ামের পাশে একটা ছয়তলা ডরমেটরি ভবন নির্মাণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুমোদন পেয়েছি। এ ছাড়া কক্সবাজারে ক্রিকেট এবং ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা নিয়েও কাজ শুরু করেছি।

ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলা হলে রাজধানী ঢাকায় চাপ পড়ে। এটা কমাতে গাজীপুর, মানিকগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তীজেলাগুলো নিয়ে কী পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজধানীর চাপ কমাতে বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ কারণে নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন করা হবে। মানিকগঞ্জে স্টেডিয়াম তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম স্টেডিয়াম সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে রাসেল বলেন, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম সংস্কারে শিগগিরই টেন্ডার হবে। এ জন্য ৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ স্টেডিয়ামের গ্যালারি শেড করে দেওয়া হবে। স্টেডিয়ামে নতুন ফ্লাডলাইট লাগানো হবে। এছাড়া কমলাপুর স্টেডিয়ামকে আধুনিকায়ন করা হবে। বুয়েট ফতুল্লা স্টেডিয়াম নিয়ে সার্ভে করা হচ্ছে, ওই প্রতিবেদন পেলেই আমরা কাজ শুরু করব।