করোনাভাইরাসের কোয়ারেনটাইনের শর্ত না মানলে বা গুজব ছড়ালে জেল-জরিমানা

প্রকাশিত: 9:27 AM, March 13, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রেক্ষাপটে কোয়ারেনটাইনের শর্ত না মানলে আইন অনুযায়ী তিন মাসের জেল, ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

অধিদফতর বলছে, এই ভাইরাস নিয়ে অনেকেই মিথ্যা তথ্য ও গুজব রটিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানাচ্ছে। তা না মানলে আইনের সংশ্লিষ্ট শাস্তিমূলক ধারা প্রয়োগ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯-এর জন্য ‘সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল আইন-২০১৮’-এর প্রয়োজন হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে ওই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা তুলে ধরে সংস্থাটি বলেছে, এই ধারাগুলো না মানলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে একটি বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাব হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের চলমান প্রস্তুতি এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। জনসাধারণের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে পরিবর্তনশীল বিশ্ব ও জাতীয় পরিস্থিতির আলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’-এর কিছু ধারা প্রয়োগ করার প্রয়োজন হতে পারে।

এই আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধিকারের মধ্যে রয়েছে—

ধারা-১(চ): বাসগৃহ, অন্যান্য গৃহ, ক্লিনিক, হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্র বা কোনো স্থাপনায় সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সেবা দিলে বা একই রকম রোগে সংক্রমণের আঁধার হিসেবে বিবেচিত হলে ওই স্থান বা স্থাপনা পরিদর্শন ও সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

ধারা-১(জ): সংক্রামক রোগের তথ্য রয়েছে— এমন কোনো ব্যক্তিকে ওই রোগের বিষয়ে অধিদফতরের কাছে তথ্য পাঠাতে নির্দেশনা দেওয়া যাবে।

ধারা-১(ট): সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন— এমন কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট হাসপাতাল, অস্থায়ী হাসপাতাল, স্থাপনা বা ঘরে অন্তরীণ বা পৃথক রাখা যাবে।

ধারা-১(ত): সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে উড়োজাহাজ, জাহাজ, জলযান, বাস, ট্রেন ও অন্যান্য যানবাহন দেশে আগমন, নির্গমণ বা দেশের ভেতরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল নিষিদ্ধ করা যাবে।

অন্য সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোতে যা রয়েছে, সেগুলো হলো—

ধারা-১০: সংক্রামক রোগের তথ্য প্রদান— (১) যদি কোনো চিকিৎসক সংক্রামক রোগে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন এবং ওই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি, কোনো বাসগৃহ, প্রাঙ্গণ বা এলাকায় সংক্রামক রোগের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবহিত হন, তাহলে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনকে অবহিত করবেন।

(২) যদি কোনো বোর্ডিং, আবাসিক হোটেল বা অস্থায়ী বাসস্থানের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির যুক্তিসঙ্গত কারণে ধারণা হয় যে এসব স্থানে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগে আংক্রান্ত হয়েছেন, তাহলে তিনি অনতিবিলম্বে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করবেন।

ধারা-১১: সংক্রমিত এলাকা ঘোষণা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, ইত্যাদি— মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংক্রামক রোগ সীমিত বা নির্মূল করা সম্ভব নয়, তাহলে তিনি সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে বা সংক্রমিত স্থানে অন্য কোনো ব্যক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ, সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

ধারা-১৪: রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে সাময়িক বিছিন্নকরণ— যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর এমন বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে কোনো সংক্রমিত ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করা না হলে তার মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারেন, তাহলে ওই ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে অন্য কোনো স্থানে স্থানান্তর বা জনবিচ্ছিন্ন করা যাবে।

ধারা-১৮: যানবাহন জীবাণুমুক্ত করার আদেশ— ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর কাছে যদি এমন বিশ্বাসের যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে কোনো যানবাহন সংক্রামক জীবাণুতে আক্রান্ত হয়েছে বা এতে সংক্রামক জীবাণুর উপস্থিতি রয়েছে, তাহলে তিনি ওই যানবাহন জীবাণুমুক্তকরণের জন্য গাড়ির মালিক বা স্বত্বাধিকারী বা তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দিতে পারবেন।

ধারা-২০: মৃতদেহের সৎকার— (১) যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগে মৃত্যুবরণ করেন বা করেছেন বলে সন্দেহ হয়, তাহলে ওই ব্যক্তির মৃতদেহ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর নির্দেশনা অনুযায়ী দাফন বা সৎকার করতে হবে।

ধারা-২৫ : দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান ও নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপনের অপরাধ ও দণ্ড— (১) যদি কোনো ব্যক্তি (ক) মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তার ওপর অর্পিত কোনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা দেন, এবং (খ) সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন, তাহলে ওই ব্যক্তির কাজ হবে হবে দণ্ডনীয় অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি (এই ধারার) উপধারা (১)-এর অধীন কোনো অপরাধ করেন, তাহলে তিনি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারা-২৬: মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদানের অপরাধ ও দণ্ড— (১) যদি কোনো ব্যক্তির সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য দেন, তাহলে ওই ব্যক্তির কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি (এই ধারার) উপধারা (১)-এর অধীন কোনো অপরাধ করেন, তাহলে তিনি অনূর্ধ্ব ২ (দুই) মাস কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারা-২৭: ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ— এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানা প্রযোজ্য হবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদেশ থেকে আসা কিছু প্রবাসী বা তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোয়ারেনটাইনের শর্ত সঠিকভাবে প্রতিপালন করছেন না। অনেকেই মিথ্যা তথ্য ও গুজব রটিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই আইন অনুযায়ী এবং নির্দেশিত পন্থায় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানাচ্ছে। তা না হলে আইনের সংশ্লিষ্ট শাস্তিমূলক ধারা প্রয়োগ করা হবে।