টঙ্গীতে পড়ে থাকা মায়ের লাশ গ্রহণ করেনি সন্তানরা,খবর পেয়ে ছুটে আসেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম

প্রকাশিত: 6:43 PM, April 15, 2020

জাগ্রত বাংলাদেশ

নিজেস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে এক নারী অসুস্থ হয়ে রাস্তায় মারা গেলেও করোনা সন্দেহে তার মরদেহ ধরেনি সন্তানসহ এলাকাবাসী। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়কেই পড়েছিল ওই নারীর লাশ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর ৫৪নং ওয়ার্ডের মোল্লাবাড়ি সড়কে ওই নারীর নিজ বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া ওই নারীর নাম আমিরুন নেছা। তিনি ওই এলাকার মৃত ইয়াকুব আলী মোল্লার স্ত্রী।

মায়ের মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ছেলে-মেয়ে এবং তার স্বজনরা মরদেহ নিতে এগিয়ে আসেনি। রাস্তায় লাশ পড়ে থাকতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে এলাকার লোকজনও সরে যান। তারা লাশের ধারে কাছেও আসেননি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং স্থানীয় হাজী কছিমউদ্দিন ফাউন্ডেশনের ৩০ জন সদস্য। পরে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত দেড়টার দিকে মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে হাজী কছিমউদ্দিন ফাউন্ডেশনের কর্মীরা মৃত নারীর মরদেহ দাফনের আয়োজন করেন।

স্থানীয়রা জানান, মৃত নারী আমিরুন নেছা টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে একা বসবাস করতেন। ছেলে-মেয়েরা কেউই এখানে থাকেন না। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে থাকা একটি ওষুধের দোকানে রক্তচাপ মাপতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পড়ে মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর খবর পেলেও শরীরে করোনাভাইরাস রয়েছে এমন সন্দেহে লাশ গ্রহণ করতে আসেননি ছেলে-মেয়ে ও স্বজনরা।

পরে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন বিধি মেনে নমুনা সংগ্রহ করেন। বুধবার সকালে ওই নারীর দাফন করা হয়।

হাজী কছিমউদ্দিন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এম এম হেলাল উদ্দিন জানান, অসুস্থ হয়ে একজন নারী রাস্তায় পড়ে আছে শুনে আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। মৃত নারীর ছেলে-মেয়ে ও স্বজনরা খবর পেয়েও লাশ গ্রহণ করতে আসেনি। পরে আইইডিসিআর’র সদস্যরা নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেলে আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা লাশ দাফন করেন।

টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের ওসি এমদাদুল হক জানান, মৃত নারী বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন। তিনি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত নারীর ছেলে-মেয়েরা খবর পেয়েও লাশ গ্রহণ করেনি।